ফাইন্যান্স ভিশন - মে ২৬, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও বড় চমক। মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari আজ ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী কাল থেকেই নবান্ন থেকে এই প্রকল্পের ফর্ম বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে, কারা এই সুবিধা পাবেন এবং কীভাবে টাকা ট্রান্সফার হবে—সব বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কাল থেকেই শুরু ফর্ম বিতরণ
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আবেদন ফর্ম অফলাইন ও অনলাইন—দুই মাধ্যমেই পাওয়া যাবে। যাতে সাধারণ মানুষকে কোনো সমস্যার মুখে না পড়তে হয়, সেই কারণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
সরকারি প্রতিনিধিরা বিধায়কদের উদ্যোগে এবং বিডিওদের নেতৃত্বে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদনকারীদের ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শহরের বাসিন্দা—সবাই সহজেই এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন।
ফর্ম পূরণ হলেই শুরু হবে টাকা ট্রান্সফার
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৩০০০ টাকা ট্রান্সফারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। অর্থাৎ যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হবে DBT পদ্ধতিতে।
এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য এই প্রকল্পকে বড় আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য সাথী ও লক্ষ্মী ভাণ্ডার চালু থাকবে
অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন ছিল, নতুন প্রকল্প চালু হলে পুরনো প্রকল্পগুলির কী হবে? সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, যতক্ষণ না ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সুবিধা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্বাস্থ্য সাথী ও লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্প চালু থাকবে।
ফলে বর্তমানে যারা এই প্রকল্পগুলির সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এই সুবিধা নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এর ফলে আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে ফ্রি যাতায়াত
আজকের ঘোষণায় আরও একটি বড় খবর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য ফ্রি যাতায়াতের সুবিধা ইতিমধ্যেই ক্যাবিনেট থেকে অনুমোদিত হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহ থেকেই তা কার্যকর হবে।
প্রাথমিকভাবে সরাসরি এই পরিষেবা চালু হলেও ভবিষ্যতে মহিলাদের জন্য আলাদা ‘ফ্রি কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
কী কী নথি লাগতে পারে?
প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য যে নথিগুলি লাগতে পারে—
আধার কার্ড
ভোটার কার্ড
ব্যাঙ্ক পাসবুক
মোবাইল নম্বর
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
বাসস্থানের প্রমাণপত্র
সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উৎসাহ
রাজ্যের নতুন এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করতেই এই প্রকল্প বড় ভূমিকা নিতে পারে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকল্পের অফিসিয়াল গাইডলাইন ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে।
