ফাইন্যান্স ভিশন : ২৭শে জানুয়ারী-২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি আবার আলোচনায়। বিদেশি পণ্যের উপর আরোপিত এই শুল্ক আদৌ কি বিদেশি দেশগুলো দিচ্ছে, নাকি এর আসল বোঝা এসে পড়ছে সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের উপর—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে অর্থনৈতিক মহলে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, ট্যারিফ নীতি বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অপ্রত্যক্ষ কর (Indirect Tax)–এর মতো কাজ করেছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারদরে পড়েছে।
ট্যারিফ কাগজে কলমে আমদানিকারকের, বাস্তবে ভোক্তার
আইন অনুযায়ী ট্যারিফ পরিশোধ করে আমদানিকারক সংস্থা। কিন্তু বাস্তবে এই অতিরিক্ত শুল্ক পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। ফলে খুচরা বাজারে দাম বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাই বাড়তি খরচ বহন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি ঠিক GST বা VAT-এর মতো অপ্রত্যক্ষ করের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
“বিদেশিরা দাম দেবে”—দাবি বাস্তবে টেকেনি
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, ট্যারিফের খরচ বিদেশি রপ্তানিকারক দেশগুলো বহন করবে। তবে বাজার বিশ্লেষণ বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিদেশি কোম্পানিগুলি দাম কমায়নি।
ফলে ট্যারিফের বোঝা প্রায় পুরোপুরি মার্কিন বাজারেই স্থানান্তরিত হয়েছে এবং ভোক্তাদের খরচ বেড়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে দাম বৃদ্ধির প্রভাব
ট্যারিফের প্রভাব শুধু শিল্পপণ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দৈনন্দিন ব্যবহারের বহু পণ্যের দাম বেড়েছে।
- ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইল সামগ্রী
- গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি
- গাড়ির যন্ত্রাংশ
- নির্মাণ সামগ্রী
এর ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর উপর মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে।
আরও পড়ুন : ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি: "মাদার অফ অল ডিলস" বলে পরিচিতসরকার রাজস্ব পেলেও উঠছে প্রশ্ন
ট্যারিফ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কিছু অতিরিক্ত রাজস্ব পেয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই আয় মোট সরকারি আয়ের তুলনায় সীমিত।
একই সঙ্গে পাল্টা ট্যারিফের কারণে মার্কিন রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু ট্যারিফ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে শিল্প সুরক্ষা বা চাকরি বৃদ্ধি সম্ভব নয়। উৎপাদন, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করাই টেকসই সমাধান।
সংক্ষেপে
- ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি কার্যত অপ্রত্যক্ষ করের মতো কাজ করেছে
- বাড়তি দামের বোঝা বহন করেছে মার্কিন ভোক্তারা
- সরকার রাজস্ব পেলেও অর্থনীতির বড় লাভ হয়নি
- মূল্যস্ফীতি ও বাজার অনিশ্চয়তা বেড়েছে
