সারা বিশ্ব আজ তাকিয়ে আছে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) দিকে।
'মাদার অফ অল ডিলস' কি ? যা আজ আমরা আলোচনা করবো ।
ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার তৈরি করবে, যাতে থাকবে ২০০ কোটি মানুষ। এই চুক্তিকে অনেকে "মাদার অফ অল ডিলস" বলে অভিহিত করেছেন, কারণ এটি বিশ্ব জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ কভার করবে।
চুক্তির পটভূমি
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ফন ডের লেইন জানিয়েছেন যে এই চুক্তি ঐতিহাসিক হতে যাচ্ছে। ১৮ বছরের দীর্ঘ আলোচনার পর এখন এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে। ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে ইইউ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই চুক্তির ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব
এই চুক্তি ভারত এবং ২৭টি ইইউ দেশের মিলিত বাজার তৈরি করবে। বর্তমানে ভারত-ইইউ বাণিজ্য ১৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা এই চুক্তির পর আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ভারতের জন্য এটি ইইউ-এর ৪৫ কোটি ধনী ভোক্তাদের বাজার খুলে দেবে।
সুবিধা এবং সুযোগ
- রপ্তানি বৃদ্ধি: ওষুধ, আইটি সার্ভিস এবং উৎপাদন খাতের রপ্তানি বাড়বে।
- বিনিয়োগ: ডিজিটাল ট্রেড এবং সবুজ প্রকল্পে ইইউ বিনিয়োগ বাড়বে।
- কর্মসংস্থান: রপ্তানি খাতে লক্ষ লক্ষ নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে।
- কৌশলগত সুবিধা: বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
প্রধান লাভবান সেক্টর
এই চুক্তিতে যে সেক্টরগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে:
- ঔষধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস: জেনেরিক ওষুধের জন্য বড় বাজার উন্মুক্ত হবে।
- পোশাক ও টেক্সটাইল: শুল্কমুক্ত প্রবেশের ফলে রপ্তানি বাড়বে।
- আইটি ও প্রযুক্তি: পেশাদারদের কাজ এবং যাতায়াত সহজ হবে।
চ্যালেঞ্জ এবং বাধা
কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে কিছু বিরোধ থাকলেও ভূ-রাজনৈতিক কারণে দুই পক্ষই এখন নমনীয়। কমার্স মিনিস্টার পিয়ুশ গোয়েল জানিয়েছেন, ভারতের কৃষি খাতের স্বার্থ রক্ষা করেই এই চুক্তি করা হচ্ছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সাপ্লাই চেইন বিঘ্নের মধ্যে এই চুক্তি ইইউ-এর বৈচিত্র্যকরণ এবং ভারতের গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে অংশগ্রহণ বাড়াবে। এটি মার্কিন শুল্কের প্রভাব কমিয়ে বিশ্ব ট্রেড অর্ডার পুনর্গঠন করবে। সামগ্রিকভাবে, এটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির প্রভাব বাড়াবে।
ভারত-ইইউ এফটিএ চুক্তি বিশ্ব অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যা ২০০ কোটি মানুষের বাজার এবং বিশ্ব জিডিপির এক-চতুর্থাংশকে একীভূত করে গ্লোবাল ট্রেডের নতুন যুগের সূচনা করবে। এটি ভারতকে সাপ্লাই চেইনের কেন্দ্রবিন্দু এবং ইইউ-কে বৈচিত্র্যময় অংশীদার প্রদান করে প্রটেকশনিজমের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করবে।
আরও পড়ুন : বাণিজ্যযুদ্ধের সম্ভাবনা ও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎলাভবান সেক্টরসমূহ :
| সেক্টর | লাভের হার | ভৌগোলিক সুবিধা |
|---|---|---|
| ঔষধ | ১০-১৫% রপ্তানি বৃদ্ধি | গুজরাট, হায়দ্রাবাদ |
| পোশাক/টেক্সটাইল | ১২-১৬% শুল্কমুক্তি | তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ |
| আইটি/সার্ভিস | গতিবিধি সহজ | বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ |
| অটো/ইস্পাত | সাপ্লাই চেইন | মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড় |
উপসংহার :
ভারত-ইইউ এফটিএ চুক্তি বিশ্ব অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি শুধু বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ভারতের কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিশ্চিত করবে। ঔষধ, পোশাক এবং আইটি খাতের অভাবনীয় উন্নতির মাধ্যমে এটি ভারতকে বিশ্ব অর্থনীতির পাওয়ার হাউসে পরিণত করবে।
