Smartphone EMI Trap: ভারতীয় যুবসমাজ কি ঋণের জালে আটকে যাচ্ছে?

ফাইন্যান্স ভিশন
By -
0
প্রকাশ: 15 ডিসেম্বর, 2025 | লেখক: Finance Vision | বিভাগ: অর্থনীতি

স্মার্টফোন EMI Trap: যুব সমাজের জন্য আর্থিক ঝুঁকি ও বাঁচার উপায়

ভারতে স্মার্টফোন এখন আর শুধু একটি ডিভাইস নয়—এটি স্ট্যাটাস, জীবনধারা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, আর ডিজিটাল পরিচয়ের প্রতীক। নতুন ফোন রিলিজ মানেই উত্তেজনা, আলোচনা, শোরুমে ভিড় এবং অনলাইন ফ্ল্যাশ সেল। কিন্তু এই উত্তেজনার ভিতরেই চুপচাপ বাড়ছে একটি বড় আর্থিক সমস্যা—EMI Trap, বা সহজ ভাষায় “কিস্তির ফাঁদ”।

No Cost EMI EMI Trap
EMI Trap

আজকের যুব সমাজ, বিশেষ করে ১৮–৩০ বছরের ব্যবহারকারীরা, এমন সব বাজেটে স্মার্টফোন কিনছে যা তাদের আয় বা সঞ্চয়ের সঙ্গে কোন মিলই নেই। কারণ? EMI সহজ। মাত্র ₹৯৯ থেকে শুরু। “No Cost EMI” লেখা। Zero Down Payment লেখা। আর এই মনস্তাত্ত্বিক প্রলোভনই ক্রমে তৈরি করছে একটি নিঃশব্দ ঋণ-সুনামি।

কেন স্মার্টফোন EMI এত দ্রুত জনপ্রিয় হলো?

যুবকদের জন্য স্মার্টফোন হচ্ছে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। ক্লাস, অফিস, রিল, ইউটিউব, পেমেন্ট, প্রোডাক্টিভিটি—সবকিছু এখন ফোন নির্ভর। ফলে নতুন ফোনকে তারা “Luxury” নয়, “Need” বলে মনে করে। কিন্তু এখানেই তৈরি হয় প্রথম ভুল ধারণা।

অনেকেই ভাবে— “এখন টাকা দিতে হবে না, মাসে মাসে দিলেই হলো।” এই ভাবনা EMI কোম্পানিগুলোর লাভে যতটা কাজ করে, ক্রেতার ক্ষতিতে ঠিক ততটাই।

No Cost EMI কি সত্যিই ‘No Cost’?

বিজ্ঞাপন বলে: “Zero Interest EMI!” “আপনার বাজেটে ফিট!” বাস্তবে যা ঘটে—ব্যাংক বা NBFC প্রায় সবসময় Processing Fee কেটে নেয়। কিছু ক্ষেত্রে GST আলাদা করে যুক্ত হয়। Retailer ফোনের ডিসকাউন্ট কমিয়ে দেয়, যাতে EMI কোম্পানি লাভ পায়। অর্থাৎ, সরাসরি সুদ না দিলেও পরোক্ষভাবে সুদের সমপরিমাণ টাকা গ্রাহকই দেয়।

আরও পড়ুন :


ক্রেডিট কার্ড ব্যালান্স ট্রান্সফার ফি এবং অতিরিক্ত চার্জ এড়াত চান তাহলে সঠিক কৌশল জানুন ।

যুব সমাজের উপর EMI-এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

বাজারের গবেষণা বলছে, EMI মানুষের মানসিকভাবে একটি ভুয়া আর্থিক স্বস্তি দেয়। মনে হয়— “মাসে মাত্র ₹১,৮০০ তো! খুব বেশি কিছু নয়।” কিন্তু এই ₹১,৮০০ যখন—Netflix, Zomato, Gym, Two-wheeler EMI, Mobile Recharge, Credit Card Bill—এসবের সঙ্গে যোগ হয়, তখন বুঝতেই না পেরে মাসিক খরচ এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যা আয়ের অর্ধেকেরও বেশি। এটাই হয় “Debt Spiral”—যেখান থেকে বের হওয়া খুব কঠিন।

EMI Trap কীভাবে তৈরি হয়?

ধরো একজন ছাত্র বা প্রথম চাকরির যুবক ₹80,000 দামের ফোন EMI-তে কিনলো। Down Payment = 0; EMI = প্রায় ₹৩,০০০ x ১২ মাস। ৩ মাস পর সে আবার দেখে—নতুন মডেল এসেছে, ক্যামেরা আরও ভালো, AI ফিচার দারুণ। আবার আপগ্রেড! ফোন এখনো পুরোপুরি শোধ হয়নি। কিন্তু নতুনটাও চাই। এভাবেই এক বছর পরে তার— একাধিক EMI, কম সঞ্চয়, ক্রেডিট স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত, চাপ ও মানসিক স্ট্রেস—সবই যোগ হয়।

মোবাইল EMI এখন Relationship EMI!

বাজার গবেষণায় দেখা যাচ্ছে—অনেক শিক্ষার্থী ও যুবক-যুবতী relationship pressure-এর কারণেই দামি ফোন কিনছে। গ্রুপে লজ্জা পাবার ভয়। ফোন খারাপ বলে মনে হবে। ভিডিও মান খারাপ হলে অন্যেরা হাসবে। এই সামাজিক চাপই EMI বাজারের সবচেয়ে শক্তিশালী ইঞ্জিন। কোম্পানিগুলো জানে—“মানুষ তার আয়ের ক্ষমতার চেয়ে ইমেজ নিয়ে বেশি ভাবছে।”

যে ধরনের ফোন EMI Trap তৈরি করছে সবচেয়ে বেশি

iPhone (বিশেষ করে Pro সিরিজ), Samsung S Series, OnePlus Flagship, Foldable Phones এবং নতুন AI-ফিচার যুক্ত প্রিমিয়াম ফোন—এই ধরনের ফোনগুলোতে EMI Trap বেশি দেখা যায়। সাধারণত দাম ৭০,০০০ — ১,৫০,০০০ টাকার মধ্যে।

ঋণের জালে আটকে গেলে কী হয়?

১. Savings ধীরে ধীরে শূন্য হয়। ২. Emergency fund তৈরি করা যায় না। ৩. Credit Score নষ্ট হয়—EMI লেট পেমেন্ট হলে। ৪. Stress, Anxiety, এবং Financial Fear। ৫. Loan পাওয়া আরও কঠিন হয়। ৬. Lifestyle inflation বেড়ে যায়।

কেন এটা একটি National Financial Problem হয়ে দাঁড়াচ্ছে?

যুব সমাজ এখন—সেভিংস কম করছে, ক্রেডিট বেশি নিচ্ছে, Lifestyle-এ বেশি খরচ করছে এবং Investments পরে রাখছে। যে দেশে ৫০% এর বেশি মানুষ যুবক—সেই দেশে এই প্রবণতা ভবিষ্যতে বড় আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

স্মার্টফোন EMI Trap থেকে বাঁচার উপায়

১. যে ফোন কিনবে, তার দাম তোমার ১ মাসের আয় অতিক্রম করা উচিত নয়। ২. অবশ্যই Down Payment দাও, EMI পুরো ১০০% নিও না। ৩. Old Phone আগে পুরো দাম উঠাও, তারপর নতুন কিনো। ৪. “No Cost” EMI-এর লুকানো চার্জ দেখো। ৫. ফোনের দাম কমলে তবেই কিনো—লঞ্চের প্রথম মাস এড়াও। ৬. 1টি ফ্ল্যাগশিপ = 2–3টি mid-range phone-এর দামের সমান—এই যুক্তি মনে রাখো। ৭. Buy only what you can pay today, not what you can pay for 12 months.

শেষ কথা

একটি স্মার্টফোন মাত্র দুই বছরের জিনিস। কিন্তু EMI, ঋণ, ব্যাঙ্ক চাপ—এগুলো দীর্ঘমেয়াদি। খুব সহজলভ্য EMI সিস্টেম, বিজ্ঞাপনের মায়া, সামাজিক চাপ, এবং মার্কেটিং কৌশল মিলিয়ে আজকের যুব সমাজ অজান্তেই একটি বড় ঋণের চক্রে আটকে যাচ্ছে। একজন সচেতন পাঠক হিসেবে এই সত্যটা জানা জরুরি—একটি ফোন আপনার জীবন বদলাবে না। কিন্তু একটি EMI আপনার আর্থিক ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।

আমাদের সাথে থাকুন! এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্লেষণধর্মী খবর জানতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
3/related/default