এই বিষয়ে কিছু নতুন কথা বলা যাক
এই বিষয়ে কিছু নতুন কথা বলা যাক, কেমন হয় ব্যাপারটা একবার ভেবে দেখতে পারেন।
এখনকার কঠিন ব্যবসা-বাণিজ্যেরদুনিয়ায় হিসাবের রক্ষকরা শুধু যোগ-বিয়োগেরমধ্যে আটকে নেই। এখনকার আধুনিক হিসাবরক্ষকেরা বেশ চাল্লু বিশ্লেষক, তারা প্রযুক্তি বোঝেন আর ব্যবসার ভালো-মন্দ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেন। এই লেখায় আমরা দেখবো কেন এখনকার দিনে আধুনিক হিসাবরক্ষক খুব দরকারি, তাদের কী কী গুণ থাকা লাগে, কোম্পানিগুলো কী সুবিধা পায় আর কী করে একজনহিসাবরক্ষককে স্মার্ট বানানো যায়, সবকিছু সহজভাবে বলা হয়েছে।
আজকের দিনে ব্যবসার দুনিয়ায়, একটু অন্যরকম হিসাবরক্ষকের দরকার।
ব্যবসার ভেতরের খবরগুলো কেমন যেন গোলমেলে ঠেকছে। আইনকানুন, ট্যাক্সের নিয়ম, আর টাকার হিসাবের সব লেখার ধরণগুলো খুব তাড়াতাড়ি পাল্টে যাচ্ছে।
ক্লাউড, ডেটা আর অটোমেশন ব্যবসার কাজে দেয় স্পিড; হিসাব যদি না বোঝেন, খেল খতম আপনার নিশ্চিত।
স্টেকহোল্ডাররা এখন শুধু আর্থিক হিসাব দেখতে চান না—তারা ভেতরের খবর, ভবিষ্যৎ গণনা, আর সাথে সাথে সবকিছু হাতের মুঠোয় পেতে চান।
স্মার্ট হিসাবরক্ষক মানে কী আসলে? (সংজ্ঞা এবং ধরণ)
শিরোনামের মানে হলো কোনো লেখার সবচেয়ে জরুরি কথা। এটা অনেকটাগল্পের নামের মতো, যা পড়েমানুষ বুঝতে পারে ভেতরে কীআছে।
স্মার্ট হিসাবরক্ষক: তিনি এমন একজন লোক যিনি যন্ত্র আর তথ্য কাজে লাগিয়ে টাকার হিসাব মেলান, খতিয়ে দেখেন আর বুদ্ধি খাটিয়ে দরকারি পরামর্শ দেন।
এখানে কিছু অদ্ভুত জিনিস আছে
- প্রযুক্তি-ভাবনা: মেঘেদের হিসাব রাখা, বড় হিসাবের খাতা, আর মেশিনের সাথে মেশিনের ভাব জমানো।
- ডেটা বিশ্লেষণের ক্ষমতা: নতুন কিছু খুঁজে বের করা, লক্ষ্যের মান ঠিক করা আর আগে থেকে কিছু বলা।
- ব্যবসার ভেতরের খবর: শুধু তালিকানয়, ব্যবসার উন্নতি কিভাবে করা যায়, সেই রাস্তা দেখানো।
- যোগাযোগ দক্ষতা: কঠিন হিসাবের বিষয়গুলোও যেন লোকে সহজে বোঝে, সেভাবে বলতে পারা।
- বিধি আর চালচলন: কোম্পানির কাজকর্ম, করের নিয়মকানুন আর হিসাব পরীক্ষার নিয়ম জেনে কাজটাচালিয়ে যাওয়া।
স্মার্ট হিসাবরক্ষক কিভাবে যেন ব্যবসার জন্য লাভ নিয়ে আসে।
সময় বাঁচানো, সেই সাথে টাকার শ্রাদ্ধ কমানো।
অটোমেশন দিয়ে হাতে লেখা তথ্য, হিসাব মেলানো আর রিপোর্ট বানানো খুব তাড়াতাড়ি আর ঠিকঠাক হয়।
মাসিক আর্থিক হিসাব প্রক্রিয়া, হাতে করলে যেখানে লাগে ৭ দিন, অটোমেশনে সেটা ১ দিনেই শেষ। এতে হিসাব বিভাগ অন্য জরুরি কাজে মন দিতে পারে।
অবিকল সিদ্ধান্তগুলো যেন আরও বেশি জীবন্ত।
ব্যবস্থাপনা যেন চোখের পলকে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কারণ তাদের কাছে আছে চলমান ড্যাশবোর্ড আর নিজের মতো করে বানানোরিপোর্ট।
পরামর্শ: সব কাজের জন্য তিন-পাঁচটা জরুরি জিনিস ঠিক করুন; প্রতি মাসের হিসাবের খাতায় সেগুলো লিখতে থাকুন।
ঝুঁকি সামলানো আর নিয়মকানুনগুলো মানা কিছুটা অদ্ভুত বিষয়।
স্মার্ট গ্যাজেটগুলো অস্বাভাবিক কিছু দেখলে ধরে ফেলে, হিসাবের পথের চিহ্ন রাখে, ফলে হাতের ভুলে সহজে চোখে পড়ে।
আয়কর আর বিধানে বদল হলে, সফটওয়্যার হালনাগাদ থাকলে শেষমেশ আর্থিক ঝুঁকি কম দেখা যায়।
ভবিষ্যতের আজব চিন্তা আর পরিকল্পনাগুলো সাজানো।
ক্যাশ ফ্লোর পূর্বাভাস আর পরিস্থিতি পরিকল্পনা ব্যবসাকে খারাপ কিছু হওয়া থেকে বাঁচায়।
উত্তর: তিনটা আলাদা বাজেট (বেসিক, মাঝামাঝি, খুব বেশি) বানিয়ে রাখলে, যদি কিছু উল্টাপাল্টা হয়, তখন তাড়াতাড়ি মানিয়ে নেওয়া যায়।
দরকারি কিছু যন্ত্র আর কৌশল (তালিকা)।
- মেঘের উপর নির্ভর করা হিসাব সফটওয়্যার (ইআরপি/হিসাব সাআস) কিছুটা অদ্ভুত।
- অটোমেশন গ্যাজেট (আরপিএ, বিল আর বেতন অটোমেশন)
- বিআই আর ড্যাশবোর্ড (পাওয়ার বিআই,Tableau অথবা হালকা কিছু উপায়)।
- ডেটা মেলানোর নিয়ম, আর API জুড়ে দেওয়া।
- সাইবার সুরক্ষা নিয়মকানুন (তথ্য লুকানো, সবকিছু বাঁচানো আর কোনো পথে প্রবেশ)।
কর্মজীবনের দিশা : কোন অদ্ভুত ক্ষমতা বাড়াতে মন দেবেন, তার নিয়মকানুন
প্রযুক্তি আর প্রোগ্রামিংয়ের কারিকুরি।
নিয়মিত মেঘের হিসাব রাখার জায়গায় তালিম চালিয়ে যান।
ছোট কাজে নতুন জিনিস পরখ করুন, প্রথমে চেষ্টা করলে বিপদ কম।
ডেটা দেখা আর তার থেকে কিছু বের করা, অনেকটা যেন লুকানো ধাঁধা মেলাচ্ছেন।
অ্যাক্সেল কাজের পাশাপাশি, এসকিউএল আর সাধারণ বিআই জানা দরকার।
কিভাবে কেপিআই ঠিক করে একটা আজব ড্যাশবোর্ড গড়বেন আর তার সহজ নিয়ম ও পরিকল্পনা বানাবেন।
যোগাযোগ রাখা আর গল্প বলা একই ব্যাপার, বিষয়টা কেমন না?
সংখ্যাগুলোকে গল্পের মতো করে বলতে চেষ্টা করুন, খুব সহজ ভাষায় বুঝিয়ে লেখার অভ্যাস করুন।
Presentation-এ ৩ মিনিটের, ১০মিনিটের, আর খুঁটিনাটি রিপোর্টের ছক রেডি রাখবেন।
এখানে কৌশল খাটিয়ে ভাবা হয়, আর ব্যবসার মারপ্যাঁচগুলোও ধরা হয়।
Output: প্রতিটি নথিতে ব্যবসার প্রভাবগুলো যোগ করুন।
খরচ আর লাভ দেখেশুনে পথ বাছুন, খালি প্যাঁচালে ডুব না দিয়ে রাস্তাগুলোও বাতলে দিন।
আসল ঘটনা আর কাজের নমুনা (ছোট করে)
মামলা ১: মাঝারি-ছোট সাইজের ব্যবসা— বিল করাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার ব্যবস্থা
একটি দোকানে বিল বানানোর গতি ছিল খুবই কম। একজন হিসাবরক্ষক রোবট ও ওসিআর ব্যবহার করে দেখলেন; হিসাব মেলানোর সময় ৬০% কমে গেল, আর টাকা তোলার গতি বেড়ে যাওয়ায় আয় ঠিক থাকল। তাই, ব্যবসার জন্য মূলধন লাগতো কম, আর জমা বাড়তে থাকলো ধীরে ধীরে।
কেস ২: সেবাদানকারী সংস্থা—খরচের গভীর বিশ্লেষণে মক্কেলগণ
একটি পরামর্শক সংস্থায় প্রকল্পের খরচ নিরীক্ষণ নড়বড়ে ছিল। একজন চৌকস হিসাবরক্ষক প্রকল্প-ভিত্তিক কেপিআই ও সরঞ্জাম তৈরি করলেন; লাভজনক কাজগুলো খুঁজে সম্পদ পুনর্বিন্যাস করা হলো। ফলাফল: লাভের অঙ্ক বেড়ে গেল।
স্মার্ট হিসাবরক্ষকের কাজের কিছু নিয়মকানুন (কাজের পরামর্শ)
- মাসিক হিসাব শেষ করার নিয়মকানুনগুলো একটু ঢংয়ে গুছিয়ে রাখুন।
- প্রতিটি আর্থিক নথিতে একটি করে অনুচ্ছেদ যোগ করুন। এটি দেখতে প্রধান সারসংক্ষেপের মতো হতে পারে।
- মেঘে রাখা ফাইলের একটা কপি বানিয়ে নিন, আর ডেটা ঠিক আছে কিনা, তা মাঝে মাঝে দেখতে থাকুন। ফাইলের পুরনো দিনের হিসাব রাখার জন্য আলাদা একটা পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
- প্রতি তিন মাসে করআর আইনের পরিবর্তনের সভায় বসুন।
- পুরো বছরের জন্য দক্ষতা মাপারতালিকা বানান, কেমন ট্রেনিং লাগবে তারও একটা ছক তৈরি করুন।
পেশাদার নমুনা ছাঁচ (ড্যাশবোর্ড বিষয়বস্তু চিন্তা)
- কভার: ছোট বিবরণ আর সারসংক্ষেপের জাদু।
- আর্থিক দিক আলো করে: আয় কেমন, খরচ কত, লাভের হিসাব (মাস গেলে বাতিন মাস পর, এইবছরে)।
- ক্যাশ এর হাল: ১২ সপ্তাহের ক্যাশ এর পূর্বাভাস।
- কেপিআই হিট তালিকা: মোট লাভ; কাজের খরচ অনুপাত; এআর দিনের হিসাব; এপি দিনের হিসাব।
- ঝুঁকি তালিকা: অমীমাংসিত বিষয়, সম্মতি সমস্যা, মনোযোগের কেন্দ্র
- পরামর্শ: সেরা তিনটি কাজের জিনিস
কিছু আজব বাধা আর কিভাবে যেন সেগুলো পার হওয়া যায়।
চ্যালেঞ্জ: নতুন কিছু নিতে দ্বিধা, যেন ভয়।
সমাধান: একদম ছোট একটা প্ল্যান করুন; ঝটপট লাভ দেখিয়ে এটাকে আরও বাড়ান।
চ্যালেঞ্জ: তথ্য কেমন, তা নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে
সমাধান: তথ্যের শুদ্ধতা বিধি, সহজ এপিআই মেলবন্ধন,প্রতিমাসে ডেটা পরিচ্ছন্ন করার কাজ।
চ্যালেঞ্জ: অদ্ভুত ক্ষমতার অভাব।
উত্তর: কাজের ফাঁকে শেখা; ছোট প্রশিক্ষণ পর্ব; কাজের মাধ্যমে পরামর্শ।
নিয়োগকর্তাদের গাইডলাইন: কেমন করে একজন বুদ্ধিমান হিসাবরক্ষক খুঁজে বের করবেন, তার কিছু অদ্ভুত নিয়ম নিচে দেওয়া হল।
- জব বর্ণনায় পরিষ্কার করে টেকনিক্যাল দক্ষতা আর ডেটা বিশ্লেষণের কাজের কথা অবশ্যই জানাবেন।
- কেস ভিত্তিক সাক্ষাৎকারে: লোকেরা সত্যি সমস্যা সামলানোর নমুনা শুনতে উৎসুক থাকে।
- টেস্ট-অ্যাসাইনমেন্ট: হালকা কাজ দিন, যেমন একটি ৩ মিনিটের সারসংক্ষেপ বানানো, অনেকটা যেন কেউ হাসতে হাসতে গল্প বলছে।
- সাংস্কৃতিক মানানসই: বদলানো দলে কাজের ইচ্ছে দেখুন, একদম অন্যরকম কর্মীরা সহজে সব বোঝে আর কাজে আগ্রহী হয়।
স্মার্ট হিসাবরক্ষক হওয়ার জন্য একটা ৩০-৯০ দিনেররাস্তা।
- প্রথম 30 দিন: প্রথমে দেখাটা শিখতে হবে, ব্যবসার টাকার হিসাব, নিয়ম কানুন আর জরুরি বিষয়গুলো খুঁজে বের করতে হবে।
- ৩১-৬০ দিন: শুরুতে উড়োজাহাজের নিয়ম—কম যন্ত্রের কাজ বা একটা দেখানোর মতো কাজ আরম্ভ করো।
- ৬১ থেকে ৯০ দিন: ফলগুলো দেখান; আপনার দলকে শেখান; কাজের নিয়মগুলো বদলে দিন।
অবশেষে, এটাই যেন শেষ কথা, কেমন না
আজকাল অর্থনীতি আর প্রযুক্তির দুনিয়া খুব তাড়াতাড়ি বদলে যাচ্ছে, তাই একজন ভালো হিসাবরক্ষক শুধু ভালো থাকলেই চলবে না, তাকে ডেটা, টেকনিক আর ব্যবসার ব্যাপারেও খুব চালু হতে হবে। কোম্পানিগুলো যখন বুদ্ধিমান হিসাবরক্ষকদের সাথে কাজ করে, তখন তারা তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কম ঝুঁকি নেয় আর তাদের উন্নতিও অনেকদিন টিকে থাকে। আপনি যদি হিসাবরক্ষক হন, তাহলে ছোটখাটো কাজ দিয়ে শুরু করতে পারেন; আর যদি লোক রাখেন, তাহলে এমন কাউকে খুঁজুন যে টেকনোলজি বোঝে আর ব্যবসার বুদ্ধি রাখে। সত্যি বলতে, যাদের এই ক্ষমতাগুলো আছে, তারাই ভবিষ্যতে ব্যবসার নিয়ম তৈরি করবে।
