ড. মুহাম্মদ ইউনুস: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দেশ কী ধ্বংসের পথে?
বাংলাদেশ আজ এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিগত তিন দশকের স্থিতিশীলতার পর, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনুসের দায়িত্ব গ্রহণ ছিল অনেকের জন্য আশার আলো। নোবেলজয়ী এই ব্যক্তিত্বের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা দেশকে দ্রুত স্থিতিশীলতা দেবে বলে প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, রাজনৈতিক স্থিতি, পররাষ্ট্র সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও সামাজিক কাঠামো—সব ক্ষেত্রেই একের পর এক ভ্রান্ত ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত দেশকে গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে। এই বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধে, আমরা এই বিপর্যয়ের মূল কারণগুলো দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত করে তুলে ধরছি।
প্রথম পর্ব: অর্থনৈতিক কাঠামোর পতন ও অদক্ষ নেতৃত্ব
প্রথম অংশে, আমরা ড. ইউনুস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের আমলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর চরম অবনতি এবং এর জন্য সরকারের অদক্ষ নেতৃত্বকে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করব।
১. অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভাঙা: Bad Debt Crisis-এর ভয়াল থাবা
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে কেবল দুর্বল নয়, এটি কাঠামোগতভাবে ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে। অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল তদারকি এবং ভুল নীতির কারণে এই সংকট দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
১.১. খারাপ ঋণের (NPL) ভয়াবহতা: সংখ্যার আড়ালে আস্থার সংকট
খারাপ ঋণের পরিমাণ ₹১.৮০ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করার অর্থ হলো, ব্যাংকগুলোর প্রদত্ত ঋণের একটি বিশাল অংশ আর ফেরত আসার সম্ভাবনা নেই। এটি কেবল একটি সংখ্যা নয়; এটি আর্থিক ব্যবস্থার ওপর থেকে জনগণের আস্থার অভাবকে নির্দেশ করে।
- তারল্য সংকট ও আমানতকারীর উদ্বেগ: ব্যাংকগুলোর কার্যকরী মূলধন (Working Capital) খারাপ ঋণে আটকে যাওয়ায় তারা তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছে। যখন আমানতকারীরা (Depositors) দেখেন যে তাদের ব্যাংকগুলো একে অপরের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চলছে, তখন তারা আতঙ্কিত হয়ে অর্থ তুলে নিতে শুরু করেন। এটি একটি ব্যাংকিং প্যানিক (Bank Panic) সৃষ্টি করতে পারে, যা পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকে অচল করে দেবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও, বিশেষত দুর্বল বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
- নৈতিক ঝুঁকি (Moral Hazard) ও রাজনৈতিক ঋণ: অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের নতুন ঋণ অনুমোদন বা পুরাতন ঋণ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কঠোরতা দেখাতে পারেনি। এই 'Political Loans' বা রাজনৈতিক ঋণ খেলাপি সংস্কৃতিকে আরও মজবুত করেছে। সরকার ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় বাজারে এক গভীর নৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে—ঋণগ্রহীতারা মনে করেন, তারা ঋণ পরিশোধ না করলেও তাদের কিছু হবে না। এই সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ বিনিয়োগের পরিবেশকে ধ্বংস করে।
- দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব: ব্যাংকিং খাতের এই ধস শিল্পায়নে স্থবিরতা আনবে। শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন ঋণ পাবে না, উৎপাদন কমে যাবে, এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (GDP Growth) দ্রুত হ্রাস পাবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও দেশের ব্যাংকিং সেক্টরকে 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' (High Risk) ঘোষণা করায় বিনিয়োগ আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ২০২৫–২৬ GDP এবং Banking Bad‑Debt (NPL) স্ন্যাপশট
Quick answer: By mid‑2025 Bangladesh’s external debt reached about $112.15 billion, nominal GDP is projected in the $470–480 billion range for 2025, and banking sector classified/non‑performing loans surged to ~24.1% (with warnings they could rise further).
Key metrics (FY2025 / mid‑2025)
| Metric | Value | Notes |
|---|---|---|
| Nominal GDP (calendar 2025, est.) | $472.2 billion | Model/projection (TradingEconomics World Bank‑based estimate). |
| Nominal GDP (2024, baseline) | $450.1 billion | World Bank reported current‑USD GDP for 2024. |
| Total external debt (June 2025) | $112.15 billion | External debt stock (public + private) at end‑June 2025. |
| Banking classified loans / NPLs (Mar 2025) | 24.13% (Tk420,335 crore) | Classified loans and bad‑loan stock reported by Bangladesh Bank (media reporting). |
Sources: আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ২০২৫‑এর জন্য আপডেট প্রজেকশন প্রকাশ করেছে।
Short analysis and drivers
- Rising external borrowing: External debt climbed sharply into 2025 as the public sector took on new loans from multilateral and bilateral lenders, pushing the stock above $112 billion by June 2025.
- Hidden loan recognition and stricter classification: A major driver of the NPL spike was tighter loan‑classification rules and the exposure of previously hidden problem accounts; classified loans jumped sharply in early 2025.
- Macro implications: Higher debt service and a larger share of troubled bank assets raise fiscal and financial‑stability pressures; nominal GDP growth and exchange‑rate movements will shape debt‑to‑GDP dynamics going into FY2025–26.
Quick text chart (visual guide)
GDP (USD billions): GDP 2024 = █████████████████████ 450.1; 2025 (proj) = ███████████████████████ 472.2.
External debt (USD billions): External debt (Jun‑2025) = ████ 112.15.
NPL ratio (percent): Classified/NPL ≈ ████████ 24.13% (Mar‑2025).
২. ডলার সংকট: রিজার্ভের পতন ও টাকার অবমূল্যায়ন
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অস্বাভাবিক অবমূল্যায়ন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক অদক্ষতার প্রধান চিহ্ন।
২.১. রিজার্ভ পতনের নেপথ্যের কারণ
রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলার (হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার আগে) থেকে ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসার পেছনে বহুমুখী চাপ কাজ করেছে:
- রেমিট্যান্সের দুর্বল প্রবাহ: দেশে ডলারের একাধিক বিনিময় হার (Exchange Rate) বিদ্যমান থাকায় শ্রমিকরা বৈধ চ্যানেলের (Formal Channel) চেয়ে অবৈধ হুন্ডি (Hundi)-এর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বেশি আগ্রহী হয়েছেন। সরকার রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়াতে কোনো কার্যকর উৎসাহ বা প্রণোদনা দিতে পারেনি।
- আমদানির অনিয়মিত ব্যয়: যদিও সরকার আমদানি কমাতে চেয়েছে, কিন্তু ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে না পারায় আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়েছে। উপরন্তু, মেগা প্রকল্পগুলোর বিশাল ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ এবং জরুরি পণ্য আমদানিতে ব্যর্থতা ডলারের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে।
- এলসি সমস্যা ও শিল্পে অচলাবস্থা: ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার না থাকায় তারা Letter of Credit (LC) খুলতে পারছে না। এর ফলে শিল্প-কারখানার কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে, অনেক কোম্পানি তাদের উৎপাদন ৩০-৫০% এ নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। এটি সরাসরি বেকারত্ব বাড়াচ্ছে।
- আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি (Imported Inflation): ডলারের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানি করা খাদ্য, জ্বালানি তেল, এবং শিল্পের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এই 'আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি' এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে (Purchasing Power) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা মূল্যস্ফীতিকে ১৩-১৪% এর কাছাকাছি নিয়ে গেছে।
৩. সাধারণ মানুষের জীবন ও অদক্ষ নেতৃত্ব
অর্থনৈতিক সংকটের চরম শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একই সাথে, অন্তর্বর্তী সরকারের অদক্ষ নেতৃত্ব এই সংকটকে আরও গভীর করেছে।
- জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি: মুদ্রাস্ফীতি ১৩-১৪% ছুঁইছুঁই করছে, কিন্তু মানুষের আয় একই রকম রয়েছে। চাল, ডাল, তেল, বিদ্যুৎ বিল, ভাড়া—সব কিছুর দাম আকাশছোঁয়া। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষেরা জীবনধারণের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
- নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও আত্মীয়প্রীতি: ড. ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত প্রশাসন দ্রুতই আত্মীয়প্রীতি, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে অদক্ষ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগের সম্মুখীন হয়। এর ফলে প্রশাসন আরও অকার্যকর হয়ে পড়ে। অর্থনীতির প্রধান সংকটগুলো মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট ও সময়ভিত্তিক কোনো পরিকল্পনা সরকার এখনো দেখাতে পারেনি।
- শিক্ষায় অস্থিরতা ও মেধা পাচার: শিক্ষক আন্দোলন, বেতন কাঠামো সংকট এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশও অস্থিতিশীল। একই সঙ্গে দেশের মেধা বিদেশে পাচার হওয়ার হার বাড়ছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
দ্বিতীয় পর্ব: রাজনৈতিক অস্থিরতা, পররাষ্ট্রের অবনতি ও নিরাপত্তার ঝুঁকি
দ্বিতীয় অংশে, আমরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব, পররাষ্ট্রনীতির চরম অবনতি এবং দেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাকে বিশ্লেষণ করব।
৪. রাজনৈতিক অস্থিরতা: সংঘাতময় পরিবেশ ও বিনিয়োগে স্থবিরতা
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যেকোনো অর্থনীতির জন্য ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।
৪.১. প্রশাসনের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্তহীনতা
- অভ্যন্তরীণ বিভেদ: জাতীয় সরকার প্ল্যাটফর্মের (JGP) ভেতরেই বিভিন্ন দলের মধ্যে মতভেদ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকট। এই সমন্বয়হীনতা কারণে দ্রুত এবং কার্যকর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
- রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা: অন্তর্বর্তী সরকারের অস্পষ্ট এবং জনপ্রতিনিধিত্ববিহীন সিদ্ধান্তগুলো দেশে বিরোধিতার ঝড় তুলেছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় থেমে গেছে। দেশের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়ছে।
৪.২. মূলবাদীদের উসকানি — দেশের নিরাপত্তায় বড় হুমকি
অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল নিয়ন্ত্রণের সুযোগে উগ্রপন্থী ও মূলবাদী দলগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
- ধর্মীয় উস্কানির বৃদ্ধি: বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় উস্কানির ঘটনা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রবণতা বেড়েছে। এটি দেশের ঐতিহ্যগত ধর্মীয় সহনশীলতা নষ্ট করছে।
- আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি: সরকারের দুর্বল নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিয়ে দেশজুড়ে অপরাধের হার বেড়েছে (ছিনতাই, খুন, চাঁদাবাজি)। অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
৫. পররাষ্ট্রনীতির চরম অবনতি: বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের অনিশ্চিত অবস্থান
ড. ইউনুসের বৈশ্বিক পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও, তার অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতি চরম দুর্বলতা এবং অস্পষ্টতার পরিচয় দিয়েছে, যা দেশের কৌশলগত অবস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
৫.১. প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে টানাপোড়েন
বাংলাদেশ বিশ্বের দুটি প্রধান ভূ-রাজনৈতিক ব্লকের (ভারত/চীন বনাম যুক্তরাষ্ট্র/ইউরোপ) মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
- ভারতের সঙ্গে দূরত্ব: অন্তর্বর্তী সরকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে ভারতের ভূমিকা নিয়ে অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতা দেখিয়েছে। এই অবিশ্বাস ও দূরত্বের কারণে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
- চীনের সঙ্গে অস্পষ্টতা: বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প এবং ঋণের বিষয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বার্তা নেই। এই দ্বিধা চীনকে বিনিয়োগ নিয়ে সতর্ক করেছে।
- পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধ: ড. ইউনুসের প্রশাসন পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার (GSP+) নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
৫.২. কূটনৈতিক ব্যর্থতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
পররাষ্ট্রনীতির এই দুর্বলতা দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় নিয়ে আসছে:
- বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস: আন্তর্জাতিক মহলে যখন এই বার্তা যায় যে 'বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা নেই' এবং 'অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণহীন', তখন বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে।
- আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতা: আঞ্চলিক ব্লক (যেমন: SAARC, BIMSTEC) এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ তার সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। দেশের কূটনৈতিক কণ্ঠস্বর এখন দুর্বল ও অস্পষ্ট।
উপসংহার: বিপর্যয় এড়াতে করণীয়
ড. মুহাম্মদ ইউনুস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তার নেতৃত্বের অদক্ষতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে না পারার কারণে দেশকে এক গভীর, বহুমাত্রিক সংকটে ফেলেছে। অর্থনীতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা—সবকিছুই এখন ভঙ্গুর।
বাংলাদেশকে এই গভীর সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রয়োজন দূরদর্শী, সক্ষম নেতৃত্ব, সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক আস্থা পুনর্গঠন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। যত দ্রুত নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তত দ্রুত দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে:
- স্থিতিশীল রাজনৈতিক কাঠামো: একটি দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করা।
- ব্যাংকিং খাতে কঠোর শুদ্ধি অভিযান: খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী তদারকি নিশ্চিত করা।
- ডলার সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: রপ্তানি বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স বৈধ পথে আনা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
- সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতি পুনরুদ্ধার: প্রধান আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করা এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি করা।
যদি দ্রুত এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া না হয়, তবে বাংলাদেশ আরও বড় অর্থনৈতিক দুর্যোগের মুখে পড়তে বাধ্য।
জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান!
বাংলাদেশ এখন আর শুধু সংকটের মুখে নেই; দেশটি একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। ড. ইউনুস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ভুল নীতি, অদক্ষতা ও সিদ্ধান্তহীনতা দেশকে এই অবস্থায় এনেছে।
এই দেশকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন সম্মিলিত সক্রিয় অংশগ্রহণ।
- ব্যাংকিং খাত সংস্কার, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অবিলম্বে একটি স্বচ্ছ ও সময়ভিত্তিক রোডম্যাপ প্রকাশ করা উচিত ।
- অদূরদর্শী ও সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রকাশ করা উচিত ।
- আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন: আপনার ব্যাংক এবং সরকারকে আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষার জন্য কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করা দরকার।
এই গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পতন রুখতে **আর এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত নয়।**